প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:১৯
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করেছে দেশটির 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস'। গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো।
ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় কাউন্সিল 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস'-এর সদস্য আহমাদ আলামোলহোদা নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বা কৌশলগত কারণে নবনির্বাচিত নেতার নাম এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
নির্বাচন সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে। আহমাদ আলামোলহোদা জানান,নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বর্তমানে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস সচিবালয়ের অধীনে রয়েছে। সচিবালয়ের প্রধান হোসেইনি বুশেহরি এই নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার জন্য মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ামাত্রই বিশ্ববাসী নতুন নেতার পরিচয় জানতে পারবে।
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে এই কাউন্সিলটি অত্যন্ত শক্তিশালী। পপুলার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় আলেম বা মুজতাহিদ নিয়ে এই সভা গঠিত। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে, পরবর্তী উত্তরাধিকারী নির্বাচনের একক ক্ষমতা এই কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত থাকে।
ইরানের এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইসরায়েল এক কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যার নামই ঘোষণা করা হোক না কেন, তিনি তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবেন।
খামেনি পরবর্তী যুগে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।