প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৭:৩৯
কানাডার 'বেগমপাড়ায়' স্ত্রীর নামে বাড়ি কেনা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুস সালাম ব্যাপারী। আজ রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মেয়াদে অনেকটা আকস্মিকভাবেই ঢাকা ওয়াসার শীর্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন আব্দুস সালাম ব্যাপারী। এর আগে তিনি সংস্থাটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে কর্মজীবনের শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ১৯৯১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ওয়াসা’তে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার দীর্ঘ চাকরিজীবনের মোট বৈধ আয় (বেতন-ভাতা) মাত্র আড়াই কোটি টাকার মতো হলেও তার সম্পদের পাহাড় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
গত ৩ মার্চ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, কানাডার অত্যন্ত ব্যয়বহুল 'বেগমপাড়া' এলাকায় আব্দুস সালাম ব্যাপারীর স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি রয়েছে। এই সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর সরকার কঠোর অবস্থানে যায়। এর ফলে সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকলেও খোদ এমডি আব্দুস সালামকে সেখানে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। মূলত জনরোষ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের চাপের মুখে তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নেন।
ওয়াসার জনতথ্য কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বিকেলে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কেবল পদত্যাগেই পার পাচ্ছেন না এই কর্মকর্তা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।
সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং আর্থিক অনিয়মের দালিলিক প্রমাণাদি সামনে আসায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে পারে। চাকরি থেকে বিদায় নিলেও অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদের দায় থেকে আব্দুস সালাম ব্যাপারী মুক্ত হতে পারবেন কি না, তা এখন তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়।