প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৭:২৪
সুপরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, লক্ষ্যভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বণ্টন করা হলে এটি অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (৭ মার্চ) পবিত্র মাহে রমজানের ১৭তম দিনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর যমুনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি গাণিতিক ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যদি প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত প্রদান করা যায়, তবে ওই পরিবারগুলোর বড় একটি অংশকে পরের বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের গুরুত্ব তুলে ধরতে আলেম ওলামাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরাম সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক স্কলার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান 'যাকাত বোর্ড' পুনর্গঠন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে যাকাত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে মুসলিম বিশ্বের একটি রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি যাকাত সংগৃহীত হয়। কিন্তু সুসংগঠিতভাবে বণ্টন না হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে যাকাত আদায় হলেও সামষ্টিকভাবে তা দারিদ্র্য বিমোচনে আশানুরূপ প্রভাব ফেলতে পারছে না। এই অর্থকে পরিকল্পিত উপায়ে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, রমজান হলো ত্যাগ ও সংযমের মাস। অথচ কিছু অসাধু লোক এই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ান। তিনি তাদের প্রতি মানুষের দুর্ভোগ না বাড়ানোর বিনীত আহ্বান জানান।
এছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে এবার ইফতার মাহফিলের সংখ্যা কমিয়ে মাত্র দুটি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই শেষ ইফতার মাহফিল হতে পারে বলেও তিনি জানান।