হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জাহাজ আটকাবে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৬:৫১

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তবে এই জলপথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, তেহরান পুরো নৌপথটি সবার জন্য বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। বরং তারা কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচল সীমিত করার নীতি গ্রহণ করেছে। এই তালিকায় প্রধানত আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভেসেল বা জাহাজগুলো রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এমনিতেই অনেকটা কমে গেছে।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আবহে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আর কোনো হামলা চালানো হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, যদি কোনো দেশ থেকে ইরানের ওপর সরাসরি আক্রমণ না আসে, তবে ভবিষ্যতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে আর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) দেশটির ‘অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ’ এই নতুন যুদ্ধনীতি অনুমোদন করেছে।

 

শনিবার এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হওয়া হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। যুদ্ধের শুরুর দিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্র— সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

 

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দেশগুলোতে বা তাদের সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণেই মূলত সেসব এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এছাড়া এই আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব ইরাক, জর্ডান, আজারবাইজান ও তুরস্কেও ছড়িয়ে পড়েছিল।