প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৭:১৩
বিশ্ববাজারে চলমান অস্থিরতা ও জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের জন্য দৈনিক জ্বালানি তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তেল বিক্রির ক্ষেত্রে রশিদ প্রদর্শনসহ বেশ কিছু নতুন শর্তারোপ করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।
বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি যানবাহন দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল সংগ্রহ করতে পারবে না। তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
ব্যক্তিগত গাড়ি: প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লিটার।
এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাস: দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার।
পিকআপ ও লোকাল বাস: দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল।
দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান: দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেন্দ্রিক বৈশ্বিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ গ্রাহক ও ডিলারদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এই কৃত্রিম চাহিদা ও অননুমোদিত মজুত রোধ করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেল সরবরাহ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিপিসি পাঁচটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে:
প্রতিবার তেল কেনার সময় ফিলিং স্টেশন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রয় রশিদ নিতে হবে, যেখানে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ থাকবে।
পরবর্তীতে তেল সংগ্রহের সময় অবশ্যই পূর্ববর্তী ক্রয়ের রশিদ প্রদর্শন করতে হবে।
ডিলারদের অবশ্যই বরাদ্দকৃত পরিমাণ মেনে রশিদ যাচাই করে তেল সরবরাহ করতে হবে।
ফিলিং স্টেশনগুলোকে তাদের মজুত ও বিক্রির সঠিক তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জমা দিয়ে তেল উত্তোলন করতে হবে।
বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের বর্তমান মজুত ও বিক্রয় তথ্য পর্যালোচনা না করে কোনোভাবেই অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করবে না।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দূর করতেই এই রেশনিং ব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।