জ্বালানি সংকটে কঠোর সাশ্রয়ী নীতি সরকারের: পেট্রোল পাম্পে বরাদ্দ কমলো ১০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৩:২২

সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশজুড়ে কঠোর সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হ্রাস এবং সার উৎপাদন সীমিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

 

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব সামাল দিতে সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি ব্যতীত দেশের অন্য সব সার কারখানার উৎপাদন আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাজারে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট ও চোরাচালান রোধে বিশেষ নজরদারি দল (ভিজিল্যান্স টিম) মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এখন থেকে পাম্পগুলোতে কোনো ধরনের ড্রাম বা আলাদা কনটেইনারে জ্বালানি তেল বিক্রি করা নিষিদ্ধ থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে 'কার-পুলিং' বা শেয়ারিং ব্যবস্থায় যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

 

গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয়ে পাইপলাইন ও বার্নার নিয়মিত পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে লিকেজজনিত অপচয় রোধ করা যায়। পাশাপাশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে

সরকারের এই সাশ্রয়ী নীতির সূচনা হয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ের অর্ধেক বাতি বন্ধ রেখে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করে মিতব্যয়িতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন। দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে অফিস চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে একইভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

 

জ্বালানি তেলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, দেশে এই মুহূর্তে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে, যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তার দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে: ডিজেল: ১৪ দিন, অকটেন: ২৮ দিন ,পেট্রোল: ১৫ দিন , ফার্নেস অয়েল: ৯৩ দিন , জেট ফুয়েল: ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।