প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০২:৪৪
ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাকে বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক ও ‘সময়ের অপচয়’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, দেশটির সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে এতটাই ভঙ্গুর যে সেখানে সেনা পাঠানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরান প্রসঙ্গে প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তার সামরিক শক্তির উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে হারিয়েছে। তিনি বলেন, “সেনা পাঠানো কেবল সময়ের অপচয় হবে। তারা তাদের নৌবাহিনীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা খুইয়ে এখন রিক্ত।” বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে স্থল অভিযান চালানোর মতো কোনো পরিকল্পনা তার চিন্তাভাবনায় নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এনবিসিকে জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের স্থল হামলা মোকাবিলায় তেহরান পূর্ণ প্রস্তুত। আরাগচির এই বক্তব্যকে ‘অযথা মন্তব্য’বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ইরানের এই হুঁশিয়ারি বাস্তবসম্মত নয়।
ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প সেখানে যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বর্তমান নেতৃত্বকে অকার্যকর ইঙ্গিত করে বলেন, “আমরা চাই ইরানে একজন ভালো নেতা আসুক।” নিজের পছন্দের তালিকায় কিছু যোগ্য ব্যক্তির নাম রয়েছে বলে আভাস দিলেও কৌশলগত কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের গুঞ্জনকে আপাতত স্তিমিত করলেও, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে তার আকাঙ্ক্ষা নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।