অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ০৪:০৪

আমদানিকৃত খাদ্যশস্য খালাসে কৃত্রিম বিলম্ব ঘটিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। শনিবার সকালে মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে আকস্মিক এক পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অধিক মুনাফা লাভের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

শনিবার ধলেশ্বরী নদী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী দেখতে পান, গম ও ভুট্টা বোঝাই বেশ কিছু লাইটার জাহাজ দীর্ঘ সময় ধরে অলস পড়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত পণ্য খালাসের কথা থাকলেও, ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত জাহাজগুলো নদীতে নোঙর করে রাখা হয়েছে। এ ধরনের অযৌক্তিক বিলম্বের পেছনে বাজার ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

পরিদর্শনকালে শেখ রবিউল আলম বলেন, আমদানিকৃত পণ্য খালাস না করে জাহাজে ফেলে রাখা একটি অশুভ অপচেষ্টা। তিনি বলেন: "বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। যারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে সরকার ছাড় দেবে না।"

 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, নৌপথের শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের টাস্কফোর্স নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত দেড় মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোর অঞ্চলের মোট ৮৩৮টি জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব অভিযানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

 

মন্ত্রী তার পরিদর্শন শেষে দেশের সকল আমদানিকারক ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানান। তিনি দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাস করে তা নিরাপদ সংরক্ষণের মাধ্যমে বাজার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নৌপথের এই তদারকি কার্যক্রম দেশব্যাপী চলমান থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।