প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ১১:৩০
ইসলামি শরিয়তে রমজান কেবল একটি মাস নয়, বরং এটি রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক মহিমান্বিত মৌসুম। মহান আল্লাহ তাআলা বছরের বারোটি মাসের মধ্যে রমজানকেই বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এই মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং মুমিন বান্দার জন্য মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়।
রমজানের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানবজাতির পথপ্রদর্শক গ্রন্থ আল-কুরআন এই মাসেই নাজিল হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। এছাড়া এই মাসের শেষ দশকে রয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এবং বরকতময়।
রোজা কেবল উপবাস থাকা নয়, বরং এটি একটি আত্মিক প্রশিক্ষণ। এই মাসে একজন রোজাদার তার কথা ও কাজে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষ করে তারাবি ও তাহাজ্জুদের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক আরও গভীর ও মজবুত হয়।
রমজান মাসে মহান আল্লাহ তাঁর রহমতের দুয়ার খুলে দেন। হাদিস অনুযায়ী, এই মাসে জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। নবীজি (সা.) সতর্ক করেছেন যে, যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, সে চরম ক্ষতিগ্রস্ত। তাই এটি তওবা ও পাপমুক্তির এক সুবর্ণ সুযোগ।
রোজা পালন কেবল উম্মতে মোহাম্মদীর ওপরই নয়, বরং পূর্ববর্তী সকল উম্মতের ওপরও ফরজ ছিল। এর মূল লক্ষ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)।
রমজানে নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর অতি নিকটবর্তী হতে পারে। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা যখন আল্লাহর প্রিয় হয়ে ওঠে, তখন আল্লাহ তার শ্রবণ, দৃষ্টি ও কর্মের সহায় হন এবং তার দোয়া কবুল করেন। এছাড়া এই মাস পারস্পরিক বিভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার মোক্ষম সময়।
রমজানে মুমিনরা দান-সদকা ও জনকল্যাণমূলক কাজে বেশি সক্রিয় হন। এটি এমন এক আধ্যাত্মিক বিনিয়োগ যা কখনো লোকসান হয় না। সুরা ফাতিরে আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামাজ কায়েম করে এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার (পরকালীন প্রতিদান) আশা করে যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
পরিশেষে বলা যায়, রমজান মাস একজন মুসলিমকে সংযম, সহমর্মিতা এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। নিজের ভেতরের অন্ধকার দূর করে তাকওয়ার আলোয় জীবনকে আলোকিত করার নামই হলো রমজান।