প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ০৩:৪২
একটি রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধি ও নৈতিকতার উচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে কৃতি মানুষদের বিকল্প নেই। সমাজ যত বেশি জ্ঞানী-গুণী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হবে, ততই তা আলোকিত হবে। আর এই তাগিদ থেকেই রাষ্ট্র তার প্রয়োজনে গুণীজনদের সম্মানিত করে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে একুশে পদক প্রবর্তনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই গভীর উপলব্ধি থেকেই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক চালু করেছিলেন। এটি কেবল একটি পদক নয়, বরং ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও গবেষণায় যারা সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করানোর একটি রাষ্ট্রীয় মাধ্যম।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার এই বিস্তারকে একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকরণ করার বিপক্ষে কড়া হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন: "জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা সভ্য সমাজের পরিচয়। বর্তমান সরকার একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, যেখানে নৈতিক মানসম্পন্ন জ্ঞানচর্চা অগ্রাধিকার পাবে।"
তিনি দেশের বিজ্ঞজনদের সরকারের এই যাত্রায় সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
ফেব্রুয়ারি মাসকে আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ। এটি একদিকে যেমন মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম ছিল, অন্যদিকে ছিল অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তিনি বলেন, আমাদের শেকড় সন্ধানী এই মাসে গুণীজনদের সম্মানিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, আজ সচিবালয়ে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পুনরায় পায়ে হেঁটে সচিবালয়ে ফিরে যান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী এ বছর একুশে পদকে ভূষিত সকল কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও ভাষা সংগ্রামীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাদের দীর্ঘ ও কল্যাণময় জীবন কামনা করেন।