প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ০৪:২২
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত করতে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী–এর কাছে উপস্থাপন করেছে এবং তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন গভর্নর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
আজ দুপুরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন। এখনই কিছু বলতে চাইছি না। কিছু হলে জানতে পারবেন।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তৎকালীন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। পরে ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার নয় দিনের মাথায় গভর্নর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গভর্নর পদত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নে আজ দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি। কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। গণমাধ্যমে খবর দেখলাম। এর সত্যতা ধরে নিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে। আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে। দেশের এই সংকটকালীন সময়ে জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
এদিকে বিভিন্ন দাবি পূরণ, তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলমবিরতিতে যাবেন তারা।
প্রতিবাদ সভার পর তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে আহসান এইচ মনসুর বলেন, কিছু কর্মকর্তা স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় পরিচালিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভিস রুলস মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, নীতিমালার বাইরে গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রক্ষায় কোনো অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে সম্ভাব্য এই পরিবর্তন দেশের আর্থিক খাতে কী প্রভাব ফেলবে—তা এখন নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।