সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদে বরফ ভেঙে মিনিবাস তলিয়ে নিহত ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ১২:৫৬

রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের বিখ্যাত   বৈকাল হ্রদে বরফ ভেঙে একটি মিনিবাস তলিয়ে সাত চীনা পর্যটক ও এক রুশ চালকের মৃত্যু হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতের সময় জমে যাওয়া হ্রদের ওপর দিয়ে চলার সময় হঠাৎ বরফ ভেঙে গেলে মিনিবাসটি প্রায় ১৮ মিটার গভীরে তলিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর ডুবুরিরা বিশেষ পানির নিচের ক্যামেরা ব্যবহার করে বাস ও মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার।

রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, বর্তমানে বৈকাল হ্রদের বরফের ওপর ভ্রমণ করা শুধু নিষিদ্ধই নয়, ‘প্রাণঘাতী’ও।

গভর্নর জানান, মিনিবাসটি প্রায় তিন মিটার চওড়া একটি বরফের ফাটলে পড়ে যায়। নিহত চীনা পর্যটকদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও ছিল। পর্যটকেরা নিজেদের উদ্যোগে ভ্রমণে গিয়েছিলেন এবং অনুমোদিত ভ্রমণ পরিচালনাকারীর সহায়তা নেননি।

বিশ্বের গভীরতম হ্রদ হিসেবে পরিচিত বৈকালের সর্বোচ্চ গভীরতা ১ হাজার ৬৪২ মিটার। প্রচণ্ড শীতে হ্রদের পানি বরফে পরিণত হয়, যা অনেক পর্যটকের কাছে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ। বরফের স্তর সবসময় সমান শক্ত হয় না; কোথাও কোথাও অদৃশ্য ফাটল বা পাতলা অংশ থেকে যায়।

দুর্ঘটনার পর গভর্নর কোবজেভ আক্ষেপ করে জানান, একই সপ্তাহে পৃথক দুটি ঘটনায় বরফে আটকে পড়া গাড়ি থেকে আরও ছয়জনকে উদ্ধার করতে হয়েছে। এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকেও জমাট হ্রদের ওপর গাড়ি উল্টে এক চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরফের ওপর দিয়ে যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা ও অনুমোদিত রুট অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায়, বৈকাল হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুহূর্তেই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির রূপ যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, নিরাপত্তা বিধি অমান্য করলে তার মূল্য চুকাতে হয় প্রাণ দিয়ে।