আরব অঞ্চলে দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ০৪:১৪

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আরব অঞ্চলে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সময়কালের গড়ের চেয়ে ১.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর আফ্রিকা ও নিকটপ্রাচ্যে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে।


ডব্লিউএমও, লিগ অব আরব স্টেটস এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের যৌথ এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে পানি-স্বল্প ১৫টি দেশের অবস্থান এই অঞ্চলে হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখানে বহুগুণ বেশি। ২০২৪ সালে চরম আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৮০-১৯৯৯ সময়কালের তুলনায় গত দুই দশকে (২০০০-২০১৯) এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও ঘনঘন খরা মানবস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে। কোনো কোনো দেশে আবার আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, গ্রিনহাউস গ্যাসের উচ্চ নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষে আরব অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় শহরগুলো হুমকির মুখে পড়বে এবং খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা চরম সংকটে পড়বে।


বর্তমানে আরব অঞ্চলের ৬০ শতাংশ দেশে আধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি হলেও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত নয়। সংকট উত্তরণে এই অঞ্চলের দেশগুলো লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ, বর্জ্যপানি পুনর্ব্যবহার এবং উন্নত সেচব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। জীবন ও জীবিকা রক্ষায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আরও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


নীতিনির্ধারকদের জন্য এই প্রতিবেদনটি একটি জরুরি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে দিকনির্দেশনা দেবে।