প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ১২:৩১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্ভাব্য ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই তথ্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গতকাল বুধবার রাতে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান (কেএএন)-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা ও সামরিক মহলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলার নির্দেশ দেবেন কি না-তা নিয়ে ওয়াশিংটনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি জোরদার করছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দেখা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পরও ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা আগের তুলনায় বেড়েছে। বরং আলোচনার ফলাফল অনিশ্চিত হওয়ায় সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ। তেহরান যদি এই সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। সে কারণেই ইসরায়েল আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবছে।
তবে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা পুরো অঞ্চলে বড় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিলেও বাস্তবতা হলো—ইরানকে ঘিরে সামরিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে ইসরায়েলসহ পুরো বিশ্ব।