প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ০৭:১৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে একঝাঁক তরুণ ও নতুন মুখ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। দিনের শুরুতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
বিকেলে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্রধানমন্ত্রী ও
মন্ত্রিসভার শপথ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত তিন বছরের মধ্যে এ নিয়ে তিনটি ভিন্ন সরকারকে শপথ পড়িয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। অনুষ্ঠানে বিদেশের অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকারে টেকনোক্র্যাট কোটায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং আমিনুর রশীদ। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে টেকনোক্র্যাট কোটায় ডাক পেয়েছেন আমিনুল হক।
মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন জোটের শরিক ও অন্যান্য দলের আলোচিত নেতারাও। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ এবং ড. আব্দুল মঈন খানের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদেরা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ইশরাক হোসেন ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মতো নেতারাও স্থান পেয়েছেন সরকারে।
শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ জানান, তাদের সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিদান দিতে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। তবে সংসদ সদস্যদের শপথের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিক লক্ষ্য করা গেছে—জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা সংসদ সদস্য পদের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। যদিও বিএনপির সংসদ সদস্যরা এই মুহূর্তে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শপথ নিলেও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিকেল সোয়া ১টার দিকে সচিবালয় থেকে শপথ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৯টি গাড়ি সংসদ ভবনের অভিমুখে রওনা হওয়ার মাধ্যমে নতুন এই সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।