শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ১১:২২

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের পর আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকার।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

তবে, এই আয়োজনকে ঘিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মোদির ঢাকায় সফর আপাতত অনিশ্চিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ভারতের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের শীর্ষ নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কিন্তু ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-র সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির পূর্বনির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি থাকায় ঢাকায় আসা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ভারতীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিতে ম্যাক্রোঁর ভারত সফর শুরু হবে মুম্বাই থেকেই।

তবে মোদি উপস্থিত না থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে শপথ অনুষ্ঠানে একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে উপ-রাষ্ট্রপতি অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, দিল্লি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী হলেও তাৎক্ষণিক কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে—চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। এই আমন্ত্রণ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনার পর।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নরেন্দ্র মোদি ফোন করে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। ফোনালাপে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য সামনে রেখে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।