পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চাইলে আমরাও কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ০৬:৫১

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে মায়েদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। অনেকে পুরোনো ফ্যাসিবাদের অ্যাপ্রোন গায়ে দিতে চায়। কালো হাত আর তুলবেন না। পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চাইলে আমরাও ছাড় দেব না—কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব।

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে না। বরং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্প গড়ে তোলা হবে। দেশবাসী দায়িত্ব দিলে জনগণের সঙ্গে বসে ডায়ালগের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট রয়েছে—একটি গণভোট এবং অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন, পরে ১১ দলের প্রার্থীদের ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামী—আমরা আজাদীর পক্ষে।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের জুলুম-নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দেশবাসী জামায়াত নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিয়েছিল। মায়েরা-বোনেরা খাবার জুগিয়েছিল। আমরা আপনাদের কাছে ঋণী। সরকারে গেলে দেশবাসীর সেই ঋণ শোধ করতে চাই। মা, মাটি ও মানুষ আমাদের হাতে নিরাপদ থাকবে।

 

একটি দলের দমন-পীড়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঘাড়ে হাত বা পিঠে চাবুক মারা যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা নেওয়া যায় না।

 

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময়ে জামায়াত অন্য ধর্মাবলম্বীদের সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হয়েছিল—যা অন্য দল পারেনি। সব দলকে পরীক্ষা করা হয়েছে, এবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে পরীক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

খুলনা মহানগর জামায়াতের অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, খুলনা বিভাগীয় শহর হলেও এখনো পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। শিল্প-কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের বেকার করা হয়েছে। আধুনিক বিমানবন্দর নেই, নেই সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিকল্পিত পর্যটন উন্নয়ন।

 

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, খুলনার বিভিন্ন আসনে জামায়াত ও জোটের মনোনীত প্রার্থীরা এবং মহানগর ও জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।