একটি দল ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির নামে শিরক করছে: তারেক রহমান

অফিস ডেস্ক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ০৬:৩৮

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে একটি দল স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করে অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে। সেই একই দল এখন আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে তথাকথিত ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করছে, যা স্পষ্টতই শিরক ও গুরুতর গুনাহের শামিল।

 

তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে কীভাবে কারচুপি করা যায়, সে লক্ষ্যে তারা ব্যালট পেপার নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক মেকানিজম তৈরি করছে।

 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের আইনপুর মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

 

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হলে কৃষক, চা-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, সেইসাথে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং বেকারদের জীবনে নতুন আশার দুয়ার খুলে দেওয়া হবে।

 

দীর্ঘ ২২ বছর পর মৌলভীবাজারের মাটিতে পা রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে ২০০৪ সালের আগস্টে মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নে এসেছিলেন। সে সময় তিনি দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূনের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপনের যৌথ সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। তারা হলেন—মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠু, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের প্রার্থী এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

 

এ ছাড়াও বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জিকে গৌছসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রঙিন ক্যাপ পরে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে থাকেন।


সকাল ১১টা থেকে স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে তারেক রহমান জনসভাস্থলে পৌঁছালে লাখো নেতাকর্মীদের স্লোগান, করতালি ও মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।


এর আগে তিনি দুপুর ১টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখান থেকে সড়ক পথে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করে বিকেল পৌনে ৩টায় জনসভায় যোগ দেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনেই তারেক রহমানের আগমন ঘিরে মৌলভীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

সকাল থেকেই শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। মাঠটি বর্ণিল সাজে সাজানো হয় এবং শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।


জনসভায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রিয় নেতার বক্তব্য শোনার সুযোগ পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত। বিএনপি কর্মী দুলন ও মাসুম বলেন, আমরা আমাদের নেতাকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে।