নিজস্ব প্রতিবেদক
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
মাত্র এক দিন আগেও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের অপেক্ষায় ছিল বিশ্ব। কিন্তু প্রত্যাশার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রায় তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্বাভাবিক চাপের পর এই সমঝোতা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। চুক্তির আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রক্রিয়া শুরু, আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ। পাশাপাশি যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য বড় অঙ্কের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শান্তির এই পথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পরও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘিত হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বাস্তবায়নই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
তারপরও যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে—এই স্মারক কি কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়ে থাকবে, নাকি সত্যিই একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে।