নিজস্ব প্রতিবেদক
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ওমান উপসাগরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে। ইরান একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামরিক সূত্র। ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরান শুধু একটি নয়, দুইটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে—যা পুরো অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সংঘর্ষ বা বাধা বিশ্ব অর্থনীতিতেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
ইরানের পক্ষ থেকে সাধারণত দাবি করা হয়, তাদের আঞ্চলিক জলসীমায় বিদেশি জাহাজ প্রবেশ করলে বা সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা গেলে তারা নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবস্থা নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং জাহাজ আটকের ঘটনা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘটিত ঘটনাটির সময় দুটি জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে এবং তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে। যদিও জাহাজগুলোর বিস্তারিত পরিচয় বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং সরবরাহ শৃঙ্খল এর ফলে অস্থির হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল থেকে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে এটি বড় ধরনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।