সারাদেশ

জাতির ভবিষ্যৎ শিশুদের যত্ন-শিক্ষা ও মূল্যবোধে নির্ভরশীল: যুক্তরাষ্ট্রে গ্লোবাল সামিটে ডা. জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৬:৫৯, ২৬ মার্চ ২০২৬
photo

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কলিউশন সামিট’-এ যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি প্রতিটি শিশুর মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরে দুই দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়। মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশ নিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা এবং তাদের সম্ভাবনা বিকাশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

 

অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের শৈশবকালীন যত্ন এবং তাদের বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের সঠিক শিক্ষা, যত্ন এবং নৈতিক মূল্যবোধের ওপর। আজ আমরা শিশুদের জন্য যে বিনিয়োগ করব, সেটিই আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।”

 

একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে শৈশব থেকেই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কাজ করার কথা জানান তিনি।

 

ভাষণে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার কার্ড’-এর মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি চালু করেছে। এই উদ্যোগগুলো পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি শিশুদের জন্য একটি সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।

 

বর্তমান যুগকে ডিজিটাল যুগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে। শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রদান, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষার বৈষম্য দূর করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) এবং ‘সুরভী’র মাধ্যমে শিক্ষা ও জনকল্যাণে নিজের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

 

বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়নের ইতিহাস তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন, যা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হয়ে আছে। বর্তমান সরকার এই ধারা অব্যাহত রেখে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারী কর্মসংস্থানের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তার সুফল আজ দেশবাসী ভোগ করছে।

 

সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং উদ্যোক্তা মিস মেহনাজ মান্নান। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্মেলন চলাকালীন ডা. জুবাইদা রহমান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন, যেখানে শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেখানো হয়। বুধবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর এই সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।