নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া' আল-সুদানী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ওপর সামরিক হামলার জন্য ইরাকের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে এক ফোনালাপে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরান - ইসরায়েল -যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের উত্তাপ থেকে ইরাককে দূরে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বাগদাদ। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আল-সুদানী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অনড় অবস্থানের কথা জানান।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুদানির স্পষ্ট বার্তা ছিল—ইরাকের কোনো মাধ্যম (আকাশ, স্থল বা জলপথ) ব্যবহার করে যেন কোনো আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তু বা প্রতিবেশী দেশে আক্রমণ চালানো না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটে ইরাককে টেনে আনার যেকোনো চেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া যেকোনো পক্ষ কর্তৃক ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাকেও তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরাকের আকাশপথ ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান চলাচলের একাধিক ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরাক পরোক্ষভাবে এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে যেমন মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে এর জবাবে ওই গোষ্ঠীগুলোও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলার দাবি করে আসছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিজের দেশকে যুদ্ধের রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচাতে ইরাক সরকার বর্তমানে অত্যন্ত সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।